ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির একটি আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৬৫ জন।
পেন্টাগনের পরিসংখ্যান বলছে, আহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যই সবচেয়ে বেশি—২৪৭ জন। এছাড়া নৌবাহিনীর ৬৩ জন, বিমানবাহিনীর ৩৬ জন এবং মেরিন কোরের ১৯ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে সাতজন সরাসরি শত্রুপক্ষের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হন এবং সৌদি আরবের একটি বিমান ঘাঁটিতে আহত হয়ে পরে একজন মারা যান। বাকিদের মৃত্যু ঘটেছে দুর্ঘটনাজনিত কারণে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই হিসাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, মার্কিন প্রশাসন প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য আড়াল করছে এবং বাস্তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি। ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
সংঘাতের ৩৫তম দিনে এসে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও এ ঘটনায় নতুন করে হতাহতের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি পেন্টাগন।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি এই সংঘাতের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণকে আরও কঠিন করে তুলছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকিও বহন করছে।
আপনার মতামত লিখুন :