বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাব ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে—এ বিষয়ে সন্দেহের খুব কম অবকাশ রয়েছে।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, জ্বালানি সংকট এখন আর একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন ব্যয় এবং খাদ্যপণ্যের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত অর্থনীতিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশে এখনো জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখা হলেও এই অবস্থান কতদিন বজায় রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার স্বল্পমেয়াদে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে সচেষ্ট। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকি বা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা আর্থিকভাবে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি খাতের অস্থিরতা সরাসরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। পরিবহন ব্যয় বাড়লে তা পণ্যদ্রব্যের দামে প্রতিফলিত হয়, যা নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় তাৎপর্যপূর্ণ চাপ তৈরি করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারকে একদিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে নিতে হবে—এমন মতও উঠে আসছে বিশ্লেষকদের কাছ থেকে।
আপনার মতামত লিখুন :