জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ-২০২৬’ বিল পাস হয়েছে, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের কাঠামো নির্ধারণ করবে। বুধবার প্রথম অধিবেশনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে আলোচনার সময় এতে আপত্তি তোলেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার বক্তব্যে আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, বিশেষত ‘কমিশন’ শব্দের ব্যাখ্যা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়ে।
বিলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এতে রাজনৈতিক আন্দোলন ও ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহিংসতার মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণে অস্পষ্টতা থেকে যেতে পারে। হাসনাত আব্দুল্লাহ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, একই আইনি কাঠামোর আওতায় ভিন্ন প্রকৃতির কর্মকাণ্ডকে একভাবে মূল্যায়ন করা হলে তা বিচার প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে বিলটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলা হয়, আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দায়বদ্ধতা নির্ধারণ এবং অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো অপরিহার্য ছিল।
সংসদ অধিবেশন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। আইনটি পাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যদিও এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :