ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপ ইরান স্থগিত করেছে—এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। তবে তেহরান বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, ফলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইসরায়েলভিত্তিক পত্রিকা জেরুজালেম পোস্ট, দেশটির আরেক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ হিসেবে নির্ধারিত আলোচনায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় এই স্থগিতের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবাননের পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য সংলাপে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে।
টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই সময়কে স্থায়ী সমঝোতার পথে রূপ দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এর আগে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হবে। তবে পরবর্তীতে সেই বার্তা সরিয়ে নেওয়া হয়, এবং প্রতিনিধি দলের যাত্রা বা উপস্থিতি নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি। একইভাবে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলা। যুদ্ধবিরতির অল্প সময় পর পরিচালিত এই হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে, যার অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির শর্ত, ভৌগোলিক পরিধি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকায় কূটনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :