মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে কড়াকড়ি অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ পারাপারের অনুমতি পায়নি। ফলে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ দিন আটকে থাকার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয়। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছে ইরান কর্তৃপক্ষের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, তবে বর্তমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে সেটি মেলেনি। নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জাহাজে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানি মজুত আছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সীমিত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত রাখা হচ্ছে, পাশাপাশি নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে অতিরিক্ত ভাতা ও খাদ্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিএসসি সূত্রে জানা যায়, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে কাতার থেকে কার্গো নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে, যা জাহাজটির স্বাভাবিক রুট ব্যাহত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিধিনিষেধ বহাল থাকায় আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এখনো ঝুঁকির মুখে রয়েছে, যার প্রভাব বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে পড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :