দেশে হামের প্রকোপ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সরকারি সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২ শিশুর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে হাম, আর বাকি ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৬ জনে—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ।
পরিসংখ্যান বলছে, গত একদিনে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,১৯১ জন। আর একই সময়ে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৯২ জন। দীর্ঘ এক মাসের ব্যবধানে—১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত—সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০,৩৫২ জনে এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৩,০৬৫ জনে পৌঁছেছে।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই সময়ে মোট ১৩,১২৯ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। যদিও ১০,৪৯৬ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, তবুও মৃত্যুহার এবং নতুন আক্রান্তের প্রবণতা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত ৩৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, শুধুমাত্র উপসর্গভিত্তিক সন্দেহজনক হামে মারা গেছে ১৭২ জন—যা রোগ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার দিকটি স্পষ্ট করে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু টিকাদান কাভারেজের প্রশ্নই নয়; বরং রোগ শনাক্তকরণ, পুষ্টিহীনতা, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা এবং জনসচেতনতার মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের ফল। বিশেষ করে কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বাড়া উদ্বেগজনক, কারণ এদের অনেকেই এখনও টিকার পূর্ণ ডোজ পায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :