ইরানের ঘোষণার পর তেলের দামে বড় পতন, ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০ ডলার কমল বিশ্ববাজারে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ন

হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ইরানি ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। একদিনের ব্যবধানে প্রতি ব্যারেল দামে প্রায় ১০ ডলার পর্যন্ত কমে গেছে বলে বাজার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯৮ ডলারের কিছু ওপরে থাকলেও ইরানের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর তা দ্রুত নেমে আসে প্রায় ৮৮ ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, এই ঘোষণায় তা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কার্যকর যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান জানিয়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবাধ রাখা হবে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর যেকোনো পরিবর্তন সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে।

গত কয়েক মাসে এই প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা ও আংশিক অবরোধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, যার ফলে এক পর্যায়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

ইরানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ সংক্রান্ত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আপাতত বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি নিরসন না হলে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।