হরমুজ ‘খোলা’ ঘোষণার পর ইরানেই চলছে কড়া সমালোচনা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ‘অস্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ করার ঘোষণার পর ইরানের ভেতরেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এই বার্তা ঘিরে রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি বিভিন্ন মহলে ভিন্নধর্মী ব্যাখ্যা উঠে এসেছে, যা নীতিগত অবস্থান নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি করেছে।

আরাঘচি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, লেবানন–সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির সময়সীমা পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত সমন্বিত নৌপথ অনুসরণ করে সব বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। তবে এই ঘোষণার পরই দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে এর বাস্তব অর্থ ও প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ ঘোষণার ক্ষেত্রে ‘সমন্বিত রুট’ বা নির্ধারিত পথ অনুসরণের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত বলা হলেও জাহাজ চলাচল কার্যত নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত পথের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে যে বার্তা গেছে, তার বাস্তব প্রয়োগ ভিন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই ঘোষণাকে অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বহাল থাকলে বাস্তবে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুরোপুরি কার্যকর হবে না। একই সঙ্গে তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্তা প্রদানের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে আইআরজিসি-সম্পৃক্ত ছাত্র সংগঠনের সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে। তারা সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করে বলেছে, এমন ঘোষণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফার্স নিউজ এজেন্সি। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানানো হলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বিরোধী পক্ষ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানের এই অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য কেবল যোগাযোগ কৌশলের দুর্বলতাই নয়, বরং কৌশলগত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা নিয়েও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।