আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশে সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়কে ‘অপরিহার্য’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
রাজধানীর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলেও সরকার তুলনামূলকভাবে সীমিত মাত্রায় দাম সমন্বয় করেছে।
মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অস্থিরতা—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অতিরিক্ত প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এ অবস্থায় সম্পূর্ণ ভর্তুকি দিয়ে আগের মূল্য ধরে রাখা বাস্তবসম্মত ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির বড় অংশ এখনো সরকার নিজেই ভর্তুকির মাধ্যমে বহন করছে, যাতে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ সীমিত রাখা যায়। তার ভাষায়, “জনগণের স্বস্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতির তুলনায় অনেক কম হারে দাম বাড়ানো হয়েছে।”
নতুন নির্ধারিত দামে অকটেন প্রতি লিটার ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং ডিজেল ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেরোসিনের দামও বেড়ে লিটারপ্রতি ১৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এই সমন্বয়ে পেট্রোল ও অকটেনের দাম যথাক্রমে ১৯ ও ২০ টাকা এবং ডিজেলের দাম ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের জ্বালানি নীতিতে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকার আপাতত ভর্তুকি অব্যাহত রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখার কৌশলেই এগোচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :