জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের পরিবহন ভাড়া ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে জনগণকে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জ্বালানির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে এবং এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব শুধু যাত্রী পরিবহনে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে তা সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে প্রতিফলিত হবে। তিনি বলেন, সরকারকে একযোগে ভোক্তা ও পরিবহন খাত—উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি নেই, তবে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “প্যানিক বায়িং” বা আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতাই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। কিছু ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সরবরাহ ঘাটতির কথা উল্লেখ করলেও এটিকে বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ বলে অভিহিত করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে পণ্যের অযৌক্তিক দাম বাড়ানোর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সরকার পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সমাজের সব শ্রেণির মানুষের ওপর সমানভাবে পড়ে না। নিম্নআয়ের মানুষের ওপর এর প্রভাব বেশি হওয়ায় তাদের জন্য সহায়তামূলক কর্মসূচি জোরদার করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতের এই পরিবর্তন দেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় নীতি নির্ধারণে ভারসাম্য রক্ষা এবং বাজার তদারকি জোরদার করাই হবে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আপনার মতামত লিখুন :