সরকারি ঋণ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে, অপচয় বা চুরির সুযোগ নেই: জাহেদ উর রহমান


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২১, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ন

অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রীয় ঋণ সবসময়ই জনগণের স্বার্থে ব্যবহার করা হয় এবং এ অর্থের অপচয় বা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকারি ঋণকে অযথা আতঙ্কের বিষয় হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। বিশ্বের বহু দেশ তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় অনেক বেশি ঋণ বহন করেও অর্থনীতি পরিচালনা করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জাপানের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশটি জিডিপির কয়েকগুণ ঋণের বোঝা নিয়েও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তাই “রেড জোনে চলে গেছে”—এ ধরনের ধারণা সঠিক নয়।

ঋণের চাপ শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়ে—এ বাস্তবতা স্বীকার করে তিনি বলেন, দেশের প্রধান সমস্যা কেবল ঋণ নয়, বরং অতীতে নেওয়া ঋণের বড় একটি অংশের অপব্যবহার। তার ভাষায়, “আমরা এমন অনেক প্রকল্প নিয়েছি যেখানে দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পায়নি।”

তিনি আরও বলেন, সরকারকে অবশ্যই ঋণ নিতে হয়, কারণ বিশ্বের কোনো সরকারই সম্পূর্ণভাবে ঋণ ছাড়া পরিচালিত হয় না। ব্যক্তি ও সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনার পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যক্তি আয়ের ভিত্তিতে ব্যয় নির্ধারণ করে, কিন্তু সরকার আগে ব্যয়ের পরিকল্পনা করে পরে আয় ও ঘাটতির হিসাব মেটায়।

জাহেদ উর রহমান জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এ ধরনের নীতিগত পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকারকে কিছু ঋণ গ্রহণ করতেই হয়। তবে লক্ষ্য থাকে ঋণের পরিমাণ যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা। তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে অর্থপ্রবাহ কমে যায় এবং অতিরিক্ত টাকা ছাপানো হলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়।

সবশেষে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার যে কোনো ঋণ গ্রহণ করে তা দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করে থাকে। তার ভাষায়, “সরকার ঋণ নিলে তা জনগণের কল্যাণেই ব্যবহৃত হবে, এ অর্থ চুরি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।