হরমুজে মাইন বসাতে দেখলেই গুলির নির্দেশ ট্রাম্পের


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ন

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজে মাইন স্থাপনকারী কোনো নৌযান শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে গুলি করে ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তার ভাষ্যে, নৌযান ছোট বা বড়— আকার বিবেচ্য নয়; মাইন পেতে দেখা গেলে তা সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ঘোষণার সঙ্গে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন মাইন অপসারণকারী জাহাজগুলো ইতোমধ্যে প্রণালিতে সক্রিয় রয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো অপারেশনাল বিবরণ প্রকাশ করেনি।

কৌশলগত রুটে নতুন উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান প্রবেশপথগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই রুট দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব জ্বালানির দাম, বীমা ব্যয় এবং শিপিং রুটে তাৎক্ষণিকভাবে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই নির্দেশ মূলত প্রতিরোধমূলক বার্তা হলেও এর কূটনৈতিক তাৎপর্যও বড়। কারণ, এটি শুধু সামরিক অবস্থান নয়, বরং আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশে শক্ত বার্তাও বহন করছে।

ঝুঁকি বাড়ছে সংঘাত বিস্তারের
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের মতে, মাইন অপসারণ অভিযান এবং “দেখামাত্র গুলি” নীতি ভুল বোঝাবুঝি বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সংকীর্ণ ও ব্যস্ত নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ, সামরিক টহল এবং আঞ্চলিক নৌযানের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজকে কেন্দ্র করে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তেল পরিবহনের ঝুঁকি বাড়লে সরবরাহ ব্যয় ও জ্বালানি মূল্য উভয়ই বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

এখন নজর, এ ঘোষণার পর আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হয় এবং হরমুজে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়। কারণ এই প্রণালিতে উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিরও বড় উদ্বেগ।