টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। শুক্রবার রাত থেকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যোগ হচ্ছে। পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। ইউনিট সচল রাখতে দৈনিক প্রায় ৭০০ মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হবে।
কারিগরি সমস্যার পর পুনরুদ্ধার
গত ২২ এপ্রিল কয়লার সঙ্গে পাথর মিশ্রিত হয়ে আসায় প্রথম ইউনিটে প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দেয় এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
দুই দিনের মেরামত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইউনিটটি ফের চালু হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লোডশেডিং কমার আশা
প্রথম ইউনিট চালু হওয়ায় পার্বতীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের একাধিক জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। বিশেষ করে চলমান চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধানের মধ্যে এই উৎপাদন আংশিক স্বস্তি দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ খাত বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন সক্ষমতা সীমিত হলেও গ্রিডে অতিরিক্ত ৫৫-৬০ মেগাওয়াট যুক্ত হওয়া পিক আওয়ারে চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
দ্বিতীয় ইউনিট এখনও বন্ধ
বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রের দ্বিতীয় ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। ফলে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় নেই। বর্তমানে প্রথম ইউনিটের পুনরায় সচল হওয়াকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হলেও দীর্ঘমেয়াদে পূর্ণ উৎপাদনে ফেরা বড় চ্যালেঞ্জ।
জ্বালানি সরবরাহ নির্ভরতা রয়ে গেছে
কেন্দ্রটি মূলত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কয়লার মান, সরবরাহ ধারাবাহিকতা এবং যান্ত্রিক নির্ভরযোগ্যতা—এই তিনটি বিষয় উৎপাদন টেকসই রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নজর এখন স্থিতিশীল উৎপাদনে
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষামূলক চালুর পর এখন প্রধান লক্ষ্য ইউনিটটিকে স্থিতিশীলভাবে সচল রাখা। যদি উৎপাদন ধারাবাহিক থাকে, তবে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এখন দেখার বিষয়, প্রথম ইউনিট কত দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতার দিকে এগোয় এবং বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিট পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আসে কি না।
আপনার মতামত লিখুন :