জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সরকারি দলের কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যক্তিগত আক্রমণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জামায়াতে ইসলামী নিয়ে তার মন্তব্য ঘিরে বিরোধী সদস্যদের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় অধিবেশন একাধিকবার হট্টগোলে স্থবির হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়।
বক্তব্যের শুরুতে ফজলুর রহমান তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কটূক্তির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা তাকে অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করেছেন এবং তার বয়স ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও মন্তব্য করেছেন। এ সময় স্পিকার তার বক্তব্যের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুললে সংসদে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
পরবর্তীতে ফজলুর রহমান জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে না। এই বক্তব্যের পরপরই বিরোধী বেঞ্চ থেকে জোরালো প্রতিবাদ শুরু হয় এবং সংসদ কক্ষে শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার বারবার সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে এবং এমন আচরণ সংসদের মর্যাদার পরিপন্থী। সংসদীয় বিধি অনুসরণে সদস্যদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বক্তব্যে ফজলুর রহমান কথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের জন্য আনা শোক প্রস্তাবের সমালোচনা করেন এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী পুলিশ হত্যা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় ইনডেমনিটি দেওয়ার বিরোধিতা জানান। এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাজনৈতিক সতর্কবার্তাও উচ্চারণ করেন, যা অধিবেশনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
সংসদে এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বক্তব্যটি শুধু তাৎক্ষণিক উত্তেজনাই তৈরি করেনি, বরং চলমান রাজনৈতিক বিভাজনকেও আরও স্পষ্ট করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :