ওপেক ছাড়ার ঘোষণা আমিরাতের, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ন

তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত শুধু তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব ফেলবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং ওপেক জোটের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমিরাতের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ঝুঁকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আগেই চাপে ফেলেছে। এর মধ্যে বড় উৎপাদনকারী একটি দেশের জোট ছাড়ার ঘোষণা বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

ওপেকের অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বে থাকা Saudi Arabia-এর জন্য এটি বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন নীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে জোটের ঐক্য দুর্বল হলে তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট Strait of Hormuz-এ নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এসেছে। এই প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ পরিবাহিত হয়, ফলে এখানকার যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তাদের উদ্বেগ যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অসন্তোষই জোট ছাড়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি উপসাগরীয় মিত্রতার ভেতরের টানাপোড়েনও সামনে এনেছে।

১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত Organization of the Petroleum Exporting Countries দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে আমিরাতের সরে যাওয়া জোটটির ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্ত তেলের দামকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা