আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ৪, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর ও আইনানুগ অবস্থানে রয়েছে।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান, আসাদুল হাবিব দুলু এবং শামা ওবায়েদ-সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। পূর্ববর্তী সময়ের নাজুক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে প্রশাসনকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগলেও সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা ও অবসর—সবই আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে।

তিনি জানান, এসব প্রশাসনিক কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং বাধ্যতামূলক অবসরের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিধি অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অবিচার না ঘটে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত হওয়া আসামিদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামিন দেওয়া আদালতের এখতিয়ার। তবে এসব ব্যক্তি যেন পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে না পড়েন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডসহ যে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে এ অভিযানে অংশ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার মূল হোতা এবং সীমান্তপথে চোরাচালানে জড়িত বড় সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।