বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবে চীন।
শুক্রবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেইজিং সফর এবং প্রথমবারের মতো যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আশাবাদ
আগামী জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ইয়াও ওয়েন বলেন, এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ আরও শক্তিশালী হবে।
বিনিয়োগ ও বড় প্রকল্পে সহযোগিতা
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসিক হল নির্মাণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করছে চীন।
সবুজ জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহের কথাও জানান তিনি। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে বেইজিং আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত।
শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ছে
দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন ইয়াও ওয়েন। তিনি জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার বাংলাদেশিকে চীনের ভিসা দেওয়া হয়েছে। বছর শেষে এ সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৪৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন গতি আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
‘নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী’ হতে চায় চীন
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সুশাসনে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে চীন সবসময় দৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাবে। একই সঙ্গে ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :