পোশাক রপ্তানিতে আবারও চীনকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অবস্থান শক্তিশালী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আবারও চীনকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। মার্কিন প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক নীতির প্রভাবে চীনা পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীনস্থ অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্র মোট ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ কম।

এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২০৪ কোটি মার্কিন ডলার। যদিও এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম, তবুও রপ্তানি পরিমাণে চীনকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে, একই সময়ে চীনের পোশাক রপ্তানি প্রায় ৫৩ শতাংশ কমে ১৭০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের প্রভাবেই চীনের রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

বাজারে শীর্ষ অবস্থানে থাকা ভিয়েতনাম চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৩৯৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে ভিয়েতনামের অংশীদারিত্ব প্রায় ২২ শতাংশ। বাংলাদেশের দখলে রয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ বাজার।

একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য কমে ১২২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর ভারতের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১১০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ কম।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির পরিবর্তন দক্ষিণ এশীয় পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। শুরুতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর উচ্চ হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হলেও পরবর্তী সময়ে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে তা কমিয়ে আনা হয়। এর ফলে চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসে।

তবে রপ্তানিকারকরা বলছেন, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় নতুন ক্রয়াদেশের গতি আগের মতো নেই। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি করছে।

তৈরি পোশাক খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং শ্রমমান ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স আরও জোরদার করতে হবে।