২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ন

দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৭ শিশু।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগটির বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে কম টিকাপ্রাপ্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২০৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭৮ শিশু। এছাড়া উপসর্গ দেখা গেছে মোট ১ হাজার ৫০৩ শিশুর মধ্যে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৪৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৫ শিশু। একই সময়ে সারা দেশে মোট ৪৯ হাজার ১৫৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে ৩৪ হাজার ৯০৯ শিশুকে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৬ হাজার ৮১৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে মারা গেছে আরও তিন শিশু। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মারা গেছে দুজন করে শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ৪৯৬ জনই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ১১৬ শিশু। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের রয়েছে ৪৪৩ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তারা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে।