মোটরসাইকেল, উচ্চ সিসির গাড়ি এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে করের আওতায় আনতে নতুন পরিকল্পনা করছে National Board of Revenue (এনবিআর)। আগামী বাজেটে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) বাড়ানোর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেলের ওপর নতুন কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury–এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাজেট–সংক্রান্ত বৈঠকে এ প্রস্তাব তুলে ধরে এনবিআর।
উচ্চ সিসির বাইক ও গাড়ি মূল লক্ষ্য
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত বিলাসবহুল ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন যানবাহনের মালিকদের করের আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত থাকতে পারে। তবে এর বেশি ক্ষমতার বাইকে ধাপে ধাপে অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্ভাব্য কর কাঠামো:
১১১–১২৫ সিসি: বছরে ২ হাজার টাকা
১২৬–১৬৫ সিসি: বছরে ৫ হাজার টাকা
১৬৫ সিসির বেশি: বছরে ১০ হাজার টাকা
বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকরা শুধু নিবন্ধন ফি ও রোড ট্যাক্স দেন। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ফিটনেস নবায়ন বা সংশ্লিষ্ট সেবার সময় অগ্রিম আয়করও দিতে হবে।
বিলাসবহুল গাড়ির করও বাড়তে পারে
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি এসইউভি নিবন্ধিত রয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তত ৫ হাজার ২৮৮টি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে।
এনবিআরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ওপর বিদ্যমান অগ্রিম আয়কর আরও বাড়ানো হতে পারে।
করের আওতায় আসতে পারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
রাজস্ব বাড়ানোর অংশ হিসেবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও করের আওতায় আনার চিন্তা করছে এনবিআর। প্রস্তাব অনুযায়ী:
সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বছরে ৫ হাজার টাকা
পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা
ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা
বর্তমানে এসব যানবাহনের কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব নেই। খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশে ৩০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।
রাজস্ব বাড়ানোই মূল লক্ষ্য
এনবিআরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কর পরিপালন বাড়ানো এবং রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারণই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তারা বলছেন, অগ্রিম আয়কর পরিশোধকারীরা পরে আয়কর রিটার্নে সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন।
সাবেক কর কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আমিনুল করিম বলেন, কর–জিডিপি অনুপাত কমে যাওয়ায় সরকারের নতুন রাজস্ব উৎস প্রয়োজন। তবে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
উদ্বেগে রাইডার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা
প্রস্তাবিত কর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাইড–শেয়ারিং চালক, ডেলিভারি কর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা, নতুন কর বাস্তবায়িত হলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে।
একজন বাইকার বলেন, “আয় কমে গেছে, খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে যদি প্রতি বছর নতুন কর দিতে হয়, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিলাসবহুল বাইক ও গাড়ির ওপর কর আরোপ যৌক্তিক হলেও জীবিকার প্রয়োজনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে আলাদা বিবেচনা প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :