যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই চীন সফরে ট্রাম্প


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই বহু প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন থেকে রওনা হয়ে বুধবার তিনি Beijing পৌঁছান।

আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চীনে অবস্থানকালে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক অস্থিরতা যখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করছে, তখন এই সফর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা সামনে আনতে পারে।

সংকটের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকলেও ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়েই সরাসরি কূটনৈতিক সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে চীনের অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির প্রশ্নটি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বেইজিং সফর বাতিল না হওয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, দুই পরাশক্তিই প্রতিযোগিতার পাশাপাশি যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে আগ্রহী।

বাণিজ্য ও নিরাপত্তা—দুই ইস্যুই গুরুত্ব পাচ্ছে
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে—

বৈশ্বিক বাণিজ্য ও শুল্কনীতি
ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি
জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ
প্রযুক্তি ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করায় দুই দেশের আলোচনায় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

চীনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
China দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কও বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই সফর চীনের ‘ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি’-র একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, চীন প্রকাশ্যে সংঘাতের বিরোধিতা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের কৌশলগত অবস্থানও শক্তিশালী রাখতে চাইছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে বাড়ছে জল্পনা
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই সফরে তাৎক্ষণিক কোনো বড় সমঝোতা নাও আসতে পারে। তবে বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় থাকা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

তিন দিনের সফর শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো নতুন নীতিগত ঘোষণা দেন কি না, কিংবা ইরান ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না—এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর সেদিকেই।

সূত্র: Associated Press