হরমুজের পর এবার বৈশ্বিক ইন্টারনেট অবকাঠামোয় নজর ইরানের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৭, ২০২৬, ৯:৪৩ অপরাহ্ন

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব জোরদারের পর এবার বৈশ্বিক ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ—সমুদ্রগর্ভস্থ সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্ককে ঘিরে নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে, পারস্য উপসাগর হয়ে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে তথ্য ও আর্থিক লেনদেন বহনকারী সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারের কৌশল নিচ্ছে তেহরান।

ইরানি গণমাধ্যম ও দেশটির আইনপ্রণেতাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, ভবিষ্যতে ইরানের জলসীমা অতিক্রমকারী সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও যোগাযোগ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে লাইসেন্স বা ট্রানজিট ফি আদায়ের চিন্তাভাবনা চলছে। এ নিয়ে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনাও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবমেরিন ক্যাবল বর্তমানে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন, ক্লাউড সার্ভিস, সামরিক যোগাযোগ, অনলাইন ব্যবসা, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদানের বড় অংশই এসব ক্যাবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এ অবকাঠামোয় যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের সামরিক সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হতে পারে। একই সঙ্গে ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কার্যক্রমে স্থানীয় কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবল ব্যবস্থাপনায় এককভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়। কারণ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও বিদ্যমান চুক্তির আওতায় অধিকাংশ সাবমেরিন ক্যাবল পরিচালিত হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক নৌপথে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ ধরনের অবস্থান মূলত ভূরাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিজেদের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরতে চাইছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, সাবমেরিন ক্যাবল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ইন্টারনেট সেবাই ব্যাহত হবে না, আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার, জ্বালানি বাণিজ্য, আউটসোর্সিং খাত এবং সরকারি-বেসরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তাকেও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।