শর্ত আর পাল্টা শর্তে নতুন উত্তেজনা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বাড়ছে অনিশ্চয়তা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলমান উত্তেজনা কমাতে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শান্তি প্রস্তাব ও পাল্টা শর্তকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ইরানের আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে কয়েকটি কঠোর শর্ত উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, ইরানের মজুত থাকা প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, অতীতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইরানকে কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালুর অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এছাড়া বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আংশিক অবমুক্ত করার দাবিও কার্যত নাকচ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, ইরান এসব শর্ত মেনে নিলেও সামরিক হামলার আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হবে— এমন নিশ্চয়তা দিচ্ছে না ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে ইরানি গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহল। আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সামরিকভাবে যা অর্জন করা সম্ভব হয়নি, যুক্তরাষ্ট্র এখন তা কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে আদায় করতে চাইছে।

অন্যদিকে ইরানও আলোচনায় বসার জন্য নিজেদের কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে— লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জব্দ অর্থ ফেরত, যুদ্ধজনিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানের প্রস্তাব উপেক্ষা করা হলে তার প্রতিক্রিয়া শুধু কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একইসঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনীও সতর্ক করেছে, নতুন কোনো হামলা হলে তার জবাব হবে আরও কঠোর ও ব্যাপক।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন কূটনীতিকে রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।