আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে স্কেল) কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এটি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, “আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল চালু করা হবে। তবে বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে সরকার কাজ করছে, যাতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।”
তিন ধাপে বাস্তবায়ন
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে স্কেল তিন বছরে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রথম ধাপ: আগামী অর্থবছরে প্রস্তাবিত মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: পরবর্তী বছরে বাকি বেসিক বেতন সমন্বয় করা হবে।
তৃতীয় ধাপ: এরপর বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা নতুন হারে দুই ধাপে সমন্বয় করা হবে।
আংশিক বাস্তবায়নের জন্য আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার
নবম পে কমিশন ২০টি গ্রেডে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করেছে। এতে—
সর্বনিম্ন মূল বেতন
৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা
সর্বোচ্চ বেতন
৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের প্রধান ও সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান বলেন, গত এক দশকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
ব্যয় বাড়বে দ্বিগুণের কাছাকাছি
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনার রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে সরকারের ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এ ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পে কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে—
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য লাগবে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা
বাকি অর্থ ব্যয় হবে পেনশনার ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য।
অর্থনৈতিক চাপে পিছিয়েছে বাস্তবায়ন
নবম পে কমিশন চলতি অর্থবছর থেকেই আংশিক বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ৩০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দও রেখেছিল।
তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম রাজস্ব আদায়ের কারণে সরকার বাস্তবায়ন পিছিয়ে আগামী অর্থবছরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ২০১৫ সালে দুই ধাপে কার্যকর হয়েছিল। প্রথমে মূল বেতন এবং পরের বছর ভাতা সমন্বয় করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :