যে মামলায় এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার দুই বছর জেল


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ন

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ–এর সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক–কে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন হিরন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রায়ের পর বিদিশার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

তবে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিদিশা বলেন, তিনি মামলার বিষয়ে অবগত নন। ফোনে তিনি জানান, “মামলা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।”

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকার একজন স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রেসিডেন্ট পার্ক এলাকার একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বনানীর রজনীগন্ধা কার্যালয়ে বাদীকে ডেকে তার মনোনীত ব্যক্তি আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার নিতে বলেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয় এবং উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজউকের অনুমোদন সাপেক্ষে বাকি অর্থ পরিশোধের পর ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

বাদীর দাবি, পরবর্তীতে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিদিশা ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। তবে ব্যাংকে জমা দিলে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, এরপর দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি পাওনা দাবি করলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।