বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব ধরনের বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হচ্ছে “ইসরাইল ব্যতীত” শব্দবন্ধ। একই সঙ্গে ই-পাসপোর্টের নকশাতেও আনা হচ্ছে বড় পরিবর্তন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের পররাষ্ট্রনীতি, ফিলিস্তিন প্রশ্নে জনমত এবং ঐতিহাসিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ২০২০ সালে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট চালুর সময় পাসপোর্ট থেকে “ইসরাইল ব্যতীত” বাক্যটি বাদ দেওয়া হয়। তখন বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন সংগঠন ওই শব্দবন্ধ পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেবল শব্দবন্ধই নয়, পাসপোর্টের ভেতরের নকশাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ই-পাসপোর্টের পাতায় থাকা বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রতীক ও পূর্ববর্তী সরকারের আমলে যুক্ত কিছু স্থাপনার জলছাপ সরিয়ে সেখানে দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের স্মারকচিত্র সংযোজন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন নকশার কাজ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ধাপে ধাপে নতুন পাসপোর্ট বাজারে আনা হবে। তবে পুরোনো পাসপোর্টের বৈধতায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বার্তারও প্রতিফলন। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমর্থনের ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই নতুন পাসপোর্টের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের জন্য সেবা প্রক্রিয়াও আগের মতো চালু থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :