পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ: স্বাস্থ্যগত কারণ দেখালেন দীপেন দেওয়ান


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ন

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। শারীরিক অসুস্থতা এবং দায়িত্ব পালনে সৃষ্ট জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে দীপেন দেওয়ান জানান, মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন। এসব জটিলতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে।

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়াই তার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং একই দিনে তা গ্রহণ করা হয়।

দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে দীপেন দেওয়ান বিচার বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে চাকরি ছেড়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এবং দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তার পদত্যাগের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নতুন নেতৃত্ব কে আসবেন, সে বিষয়ে সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, শান্তি প্রক্রিয়া, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত হওয়ায় নতুন মন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি সরকারের জন্য অগ্রাধিকার পাবে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, পদত্যাগের কারণ হিসেবে স্বাস্থ্যগত বিষয়ই আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কারণের তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।