বিশ্ব রক্তদাতা দিবস

একদিনের দাতা নয়, হোন জীবনভর মানবতার সাথী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ন

আমাদের দেশে বছরে প্রায় ১০ লক্ষ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে স্বেচ্ছা রক্তদানের মাধ্যমেই একটা বড় অংশের প্রয়োজন মেটে। একটা অংশ আত্মীয়-পরিজন এবং সত্য হলো যে, এখনো পেশাদার রক্তদাতা কিংবা রক্ত বিষয়ক প্রতারণার খপ্পরে পড়তে হয় অনেক রোগীর স্বজনকে। তবে আশার কথা হচ্ছে দিন দিন এ হার কমছে। কমছে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের নিয়মিত দান এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে।
সাধারণত থ্যালাসেমিয়া ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, প্রসূতির রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ রোগী, বড় অপারেশন, দুর্ঘটনা ইত্যাদি নানা কারণে রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্তের কোনো বিকল্প নেই। রক্তের প্রয়োজনে রক্তই দিতে হয়। আর সে কাজটিই স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ নিয়ে করে যাচ্ছেন স্বেচ্ছা রক্তদাতারা।
ধরা যাক, প্রতি মাসে একজন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুর এক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। যদিও কোনো কোনো থ্যালাসেমিয়া রোগীর মাসে ২ বা তারও অধিক ব্যাগের প্রয়োজন হতে পারে। স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের রক্ত নিয়েই মাস অতিক্রম করতে হয় এমন অসংখ্য রোগীকে। এক মাস গেল তো আবার আরেক মাসের অপেক্ষা।
একজন স্বেচ্ছা রক্তদাতা হয়তো একদিন ল্যাবে এসে রক্ত দান করে গেলেন। তার সেই রক্ত দিনের পর দিন জীবনভর বইতে থাকে রোগীর শরীরে। শুধু কি রক্ত, রক্তের পাশাপাশি মানবতাও বইতে থাকে রক্তের প্রতিটি ফোঁটা ফোঁটায়। আর নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উপর ভরসা করে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত একজন রোগী যখন পড়াশুনা করছেন, চাকরি, ব্যবসা কিংবা উদোক্তা হচ্ছেন তখন তার সেই সকল কর্মের ভেতরেই কি রক্তদাতার মানবতা জড়িয়ে যায় না? সেইসব রোগীদের আন্তরিক দোয়া কি স্বেচ্ছা রক্তদাতা পান না? অর্থাৎ একজন স্বেচ্ছা দাতার দান শুধু একদিনের নয়, চলতে থাকে জীবনভর।
শারীরিক মানসিকভাবে আপাত সুস্থ ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো সক্ষম ব্যক্তি প্রতি চার মাস পরপর রক্ত দিতে পারেন। নিয়মিত রক্তদানে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি কমে যায়। এমনকি আত্মিক-আধ্যাত্মিকভাবেও এর উপকার লাভ করেন দাতা।
রোগভেদে একেক রোগীর জন্যে রক্তের একেক উপাদান লাগে। রক্তদানের পরপরই উন্নত প্রযুক্তির মেশিনে রক্ত উপাদানগুলো যথাযথভাবে পৃথক করা গেলেই এটি সম্ভব। এক্ষেত্রে রক্তদাতাকে সরাসরি ল্যাবে গিয়ে রক্তদান করতে হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মতো উন্নত ল্যাবে নিরাপদ ও দ্রুত সেবাদানের নিমিত্তে আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে একব্যাগ রক্তকে ৮টি উপাদানে আলাদা করার ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন- ১. প্লাটিলেট কনসেনট্রেট ২. ফ্রেশ প্লাজমা ৩. ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা ৪. প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা ৫. প্লাটিলেট পুওর প্লাজমা ৬. প্রোটিন সলিউশন ৭. রেড সেল কনসেনট্রেট এবং ৮. ক্রায়ো-প্রিসিপিটেট। তার মানে এক ব্যাগ রক্তকে একইসাথে কাজে লাগানো যাচ্ছে কয়েকজনের প্রয়োজনে।
রক্তদানের মতো মহৎ এ উদ্যোগে নিয়মিত রক্ত দিন। রক্তের প্রতিটি ফোঁটায় রক্ত নয় জীবন জড়িত। মানবতা জড়িত। আজকের নিয়মিত রক্তদান আগামী দিনের জীবনরক্ষা। বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে সকল স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে শুভেচ্ছা।

তুহিন দাস টিটো
সংগঠক, কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম