ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এস আলম


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৫, ৭:৩২ অপরাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভয়াবহ দুর্নীতি ও লুটপাটের শিকার হয়েছে শরিয়াহভিত্তিক ইউনিয়ন ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, এস আলম গ্রুপ ভুয়া কোম্পানি, জাল ট্রেড লাইসেন্স ও ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ব্যাংকটি থেকে তুলে নিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ, যার বিপরীতে জামানত রাখা হয়েছে মাত্র ৩৩৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সীমাহীন অনিয়মের কারণে ব্যাংকটির ঋণের ৯৮ শতাংশই এখন খেলাপি। অনুমোদন ছাড়াই ১৯টি শাখা থেকে ৪৮ জন গ্রাহককে ২ হাজার ২৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এছাড়া ২২২ জন গ্রাহককে মঞ্জুরি সীমার বাইরে দেওয়া হয়েছে আরও ৪ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। কোর ব্যাংকিং সফটওয়ার জালিয়াতির মাধ্যমে ৫০ জন গ্রাহক পেয়েছে ২ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। এমনকি জামানতের জমির মূল্য ২,৭০০ শতাংশ বেশি দেখিয়ে ঋণ বিতরণ করা হয় ১০১ জন গ্রাহককে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির জানান, ভুয়া এনআইডি ও ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে কোম্পানি খোলা হয় এবং সেই নামে ঋণ নেওয়া হয়। কিন্তু টাকা ফেরত চাইলে প্রকৃত এনআইডি ধারকরা বিষয়টি জানেনই না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খেলাপি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ অধিগ্রহণ ও বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা উদ্ধার সম্ভব। তবে প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রিতা ও বিচারহীনতা আর্থিক খাতকে আরও বড় সংকটে ফেলছে।

এদিকে, ইউনিয়ন ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন আহমেদ আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেছেন, এস আলম গ্রুপ প্রকৃতপক্ষে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। তার ভাষায়, “২৬ হাজার কোটি টাকার পাওনা শুধু এস আলমের কাছে। যাদের নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে, তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।”

তিনি জানান, বর্তমানে ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যার ৯২ শতাংশই এস আলম গ্রুপ দুর্নীতির মাধ্যমে সরিয়ে নিয়েছে। তবে আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত মেনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

👉 এই কেলেঙ্কারি দেশের ব্যাংকিং খাতের ভয়াবহ দুর্বলতা ও দুর্নীতির চিত্র উন্মোচন করেছে।