বিরোধী দলের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ প্রস্তুত, সময় হলেই ঘোষণা: জামায়াত আমির


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ন

বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, দলটির একটি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ প্রস্তুত রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থার সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকলেও বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার প্রচলন রয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চায়। তার ভাষায়, সংসদকে কেবল আনুষ্ঠানিক বিতর্কের জায়গা নয়, বরং জনগণের সমস্যা ও তার বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়ে কার্যকর আলোচনার মঞ্চে পরিণত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের দাবি উপেক্ষা করায় জাতীয় রাজনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে। তার দাবি, জামায়াত ও বিএনপি—উভয় দলই গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তবে সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দলের অবস্থানে পার্থক্য ছিল। তিনি বলেন, জামায়াত নিয়ম মেনে শপথ নিলেও বিএনপি সংবিধানে এ ব্যবস্থার উল্লেখ না থাকার যুক্তিতে শপথ নেয়নি।

বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও সংবিধানের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গঠিত হয়েছিল, অথচ সেই সরকারের অধীনেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে এখন ক্ষমতায় রয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও দাবি করেন, গণভোটে বিপুলসংখ্যক ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার অভিযোগ, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা তুললেও বিরোধী দল হিসেবে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের পরিবর্তে সংসদে বিরোধী দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

তিনি বলেন, জনগণ যে সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেটিকে শুধু সংশোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একাধিক অধ্যাদেশ বাতিল করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে চলমান রাজনৈতিক সংলাপের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে নতুন সংকটের আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।