হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে চায় ইরান। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আঞ্চলিক দেশগুলো এই জলপথে কোনো একক রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব মেনে নেবে না বলে মনে করছেন সামরিক ও সামুদ্রিক বিশ্লেষক আলেকজান্দ্রো হুদিস্তানু।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান নিজেকে হরমুজ প্রণালির প্রধান তদারককারী বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতেই আগ্রহী বিশ্বের অধিকাংশ দেশ।
তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বিদ্যমান সমঝোতা কার্যকর করে একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সমাধানের দিকে এগোতে চায়।
হুদিস্তানু বলেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশ নয়, গোটা বিশ্বই হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। তবে বর্তমান সংঘাত শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ইরানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। সংঘাত শেষে যদি তেহরান দাবি করতে পারে যে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচল তাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল, তাহলে ভবিষ্যতে ওই জলপথে স্থায়ী প্রভাব ও আইনি অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তারা এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে এ অঞ্চলের যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
সূত্র: আল জাজিরা
আপনার মতামত লিখুন :