সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের নীতি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণ অন্যতম।

কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

বক্তব্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে বৃক্ষরোপণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা হলেও সরকারি হিসাবে সাত লাখ গাছ রোপণের দাবি করা হয়। তবে নিজে পরিদর্শন করে তিনি সর্বোচ্চ দুই লাখ গাছের অস্তিত্ব পেয়েছেন বলে জানান।

দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর আহ্বান

গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সংখ্যার জন্য গাছ লাগালে হবে না। কোন এলাকার মাটি ও পরিবেশের সঙ্গে কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, তা বিবেচনায় রাখতে হবে।

তিনি ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণির মতো বিদেশি প্রজাতির পরিবর্তে দেশীয় ফলদ, বনজ, ঔষধি, বাঁশ, অর্কিড ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গাছ রোপণের আহ্বান জানান।

নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দায়িত্বের ওপর জোর

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা বা প্লাস্টিক না ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিজের দেখা একটি ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরেন।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের আহ্বান

পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অকারণে প্রাণী হত্যা বা ক্ষতি করা উচিত নয়। নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, উন্নয়ন ও পরিবেশ একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে। প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।