নকআউট পর্বজুড়ে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েও থামেনি আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডকে পেরিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও পিছিয়ে পড়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের অপেক্ষাও আরও দীর্ঘ হলো।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের প্রথমার্ধ ছিল রক্ষণাত্মক লড়াইয়ে ভরপুর। দুই দলই মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলেও আক্রমণভাগে কার্যকর হতে পারেনি। প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি। ফাউলের ছড়াছড়ি, শারীরিক লড়াই আর কড়া মার্কিংয়ের মধ্যেই গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনা আক্রমণের গতি বাড়ায়। লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজের দারুণ বোঝাপড়া থেকে সুযোগ তৈরি হলেও জর্ডান পিকফোর্ড দুর্দান্ত সেভ করে ইংল্যান্ডকে রক্ষা করেন। তবে ৫৫তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত থেকে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস ব্যাক পোস্টে পেয়ে অ্যান্থনি গর্ডন সহজেই বল জালে পাঠিয়ে ইংলিশদের লিড এনে দেন।
গোল হজমের পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ৬৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে নিকো গঞ্জালেজ ম্যাচে নতুন গতি আনেন। ৬৯তম মিনিটে মেসির ক্রস থেকে তার শক্তিশালী হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন পিকফোর্ড। ৭২ মিনিটে একসঙ্গে তিন পরিবর্তন এনে স্কালোনি মাঠে নামান রদ্রিগো দে পল, গনসালো মন্তিয়েল ও নিকোলাস ওতামেন্দিকে। এরপর ৭৬তম মিনিটে দে পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আর কয়েক মুহূর্ত পর গঞ্জালেজের আরেকটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
শেষ পর্যন্ত ৮৫তম মিনিটে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত শট পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দ্রুতগতির আক্রমণে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা।
এই জয়ে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। এখন তাদের সামনে শিরোপা ধরে রাখার হাতছানি। অন্যদিকে, আরেকটি বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো ইংল্যান্ডকে।
আপনার মতামত লিখুন :