মার্কিন হামলায় ইরানের পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত, ২০ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ পানিবঞ্চিত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের টানা সাত দিনের সামরিক অভিযানের মধ্যে এবার দেশটির একটি পানি শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইরানের দাবি, হরমোজগান প্রদেশের জাস্ক কাউন্টির বুঞ্জি গ্রামে অবস্থিত একটি পানি পরিশোধন পাম্পে হামলার ফলে অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা সুপেয় পানির সংকটে পড়েছেন।

শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হরমোজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হামজেহ পুর জানান, হামলায় সমুদ্র থেকে পানি উত্তোলনের পাম্পিং স্টেশন এবং বুঞ্জি পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এতে পুরো এলাকায় সুপেয় পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরান এই হামলাকে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ‘ধারাবাহিক অপরাধ ও সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার হাজারো মানুষ এখন তীব্র পানি সংকটের মুখে রয়েছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর একটি বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রের অংশে আগুন লাগে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে টানা সাত রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান আর শুধু পাল্টা হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, যার প্রভাব গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।