দেশজুড়ে ১,৪০০ বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা, চার্জিং নেটওয়ার্ক ও মনোরেলেও জোর দিচ্ছে সরকার


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ন

দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক (ইভি) বাস চালুর বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সারাদেশে সার্বজনীন ইভি চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় রুটে মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানিয়েছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিবহন খাতকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও দক্ষ করতে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বর্তমানে ৫০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রকল্প অর্থায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় ৩০০টি ইভি বাস সংগ্রহের প্রকল্প সংশোধন করে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আরও ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সরকার ক্রয় প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ৪০০ কোটি টাকা করে দুটি পৃথক ক্রয় প্যাকেজ যুক্ত করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় নারী যাত্রীদের জন্য ১০০টির বেশি বিশেষ বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রায় ১,৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত হবে। এর মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচিত কয়েকটি রুটে অন্তত ২০০টি ইভি বাস চলাচল শুরু হতে পারে।

ইভি বাস পরিচালনাকে কার্যকর করতে সারাদেশে অভিন্ন মানের চার্জিং স্টেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। বিআরটিসি দেশের ৬৪টি জেলায় নিজস্ব জমিতে চার্জিং স্টেশন স্থাপন করবে। অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকলে এসব স্টেশন বেসরকারি অপারেটররাও ব্যবহার করতে পারবেন।

বৈদ্যুতিক বাসের জন্য অভিন্ন কারিগরি মানদণ্ড প্রণয়নে বুয়েট ও এমআইএসটির বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। এতে ব্যাটারি, চার্জিং প্রযুক্তি ও রক্ষণাবেক্ষণের মান নির্ধারণ করা হবে। ভবিষ্যতে এই মানদণ্ড বৈদ্যুতিক মিনিবাস ও ট্রাকেও সম্প্রসারণ করা হবে।

এছাড়া যেসব রুটে মেট্রোরেল উপযোগী নয়, সেখানে মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সরকার। সম্ভাব্য রুট ও কারিগরি মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বুয়েটকে।

বেসরকারি পরিবহন মালিকদের বৈদ্যুতিক বাসে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে কর ছাড় ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইভি বাসের তুলনামূলক বেশি ব্যয় এবং যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়ার মধ্যে ভারসাম্য আনতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভর্তুকি ও ভাড়া কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পরিবহন খাতের সার্বিক আধুনিকায়নের উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে।