যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন মোড়ে, সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও একটি বৃহৎ আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। গত মাসে সংঘাত বন্ধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত ভেঙে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানানোর পর এবার ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে এমওইউ থেকে নিজেদের সব অঙ্গীকার স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, মার্কিন হামলা আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকলে তারা ‘সর্বাত্মক সামরিক অভিযান’ শুরু করবে।

শনিবার টানা সপ্তম দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনা, নজরদারি ব্যবস্থা, অস্ত্রভান্ডার, নৌঘাঁটি ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। তবে ইরানের অভিযোগ, হামলার লক্ষ্য এখন শুধু সামরিক অবকাঠামো নয়; বিমানবন্দর, সেতু, রেলস্টেশন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাও আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

হরমোজগান প্রদেশে সর্বশেষ হামলায় ৩ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। দুটি সেতু, একটি সড়ক সুড়ঙ্গ এবং ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই থেকে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের বহু এলাকায় বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতির জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন বারবার সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরের আর কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি নিশ্চিত করেছেন, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা থেকে সরে এসেছে। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানে যাবে।

এরই মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও তাদের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। কুয়েতে একটি তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি উৎপাদন ইউনিট বন্ধ রাখতে হয়েছে। বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে তেহরান। জর্ডানে হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রায় তিন মাস পর প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং ইয়ানবু অঞ্চলেও হামলার খবর এসেছে। পাশাপাশি সিরিয়াতেও নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।