২০২৭ সালের মধ্যে ২১ নতুন বিমান, ২০ দেশের ৩০ গন্তব্যে উড়তে চায় ইউএস-বাংলা


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন

দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে বড় ধরনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বহরে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করে ২০টি দেশের ৩০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

রোববার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ২০১৪ সালে যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি এয়ারলাইন্সে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ২৫টি আধুনিক উড়োজাহাজ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩টি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ। এসব বিমান দিয়ে দেশের ৬টি অভ্যন্তরীণ এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বহরে যুক্ত হবে ২১ নতুন বিমান

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হবে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ। এর মধ্যে থাকবে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এনজি। সংস্থার দাবি, এটি বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম বৃহৎ বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি। নতুন প্রজন্মের এসব উড়োজাহাজ জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর হবে।

নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্য

বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও পেনাং। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাণিজ্য, পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

নিরাপত্তা ও সেবায় জোর

ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, তাদের কর্পোরেট দর্শনের মূল ভিত্তি নিরাপত্তা, সেবার উৎকর্ষ, পরিচালন দক্ষতা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে তারা যাত্রীসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে তারা আইএটিএ (IATA) এবং আইওএসএ (IOSA)-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে, যা তাদের পরিচালন সক্ষমতা ও নিরাপত্তা মানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

দেশীয় এয়ারলাইন্সের বাজার অংশ বাড়ানোর আহ্বান

ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর মার্কেট শেয়ার মাত্র ২৫ শতাংশ, আর বাকি ৭৫ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে। দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।