দলীয় বহিষ্কারেই এমপি পদ যায় না, গাজী নজরুলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আইনি প্রক্রিয়ায়: ইসি


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিওকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্পষ্ট করেছে, শুধু দলীয় বহিষ্কারের কারণে কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সংবিধান অনুযায়ী এমপি পদ শূন্য হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। যদি জাতীয় সংসদের স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠান, তাহলে কমিশন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনের আলোকে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দলত্যাগ বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের কারণে এমপি পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে—এমন কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।

এদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা আসন নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। কমিশন দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগ করে শুনানি গ্রহণ করবে এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে। সেই সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।

এর আগে, গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে জামায়াত তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং ঘটনাটিকে ‘নৈতিক স্খলন’ হিসেবে উল্লেখ করে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করে। দলটি এ সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকেও জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন অতীতের কয়েকটি ঘটনারও উদাহরণ তুলে ধরে। যেমন, লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেও শুনানির আগেই এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। অন্যদিকে মুরাদ হাসান দলীয় পদ হারালেও সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল। এসব নজির থেকে স্পষ্ট, দলীয় সিদ্ধান্ত ও সংসদ সদস্য পদের সাংবিধানিক অবস্থান এক নয়।