দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গভবন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সূত্রগুলোর দাবি, গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ভারতের অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। পরে বিষয়টি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে আসে। এর পর থেকেই রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগের একটি পরোক্ষ বার্তা পৌঁছায় বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
তবে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণ শুধু ওই ফোনালাপ নয়; বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সম্ভাব্য দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতাও এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের সম্ভাব্য অপতৎপরতা প্রতিরোধে অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
যদিও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের নির্দিষ্ট সময় কিংবা তার উত্তরসূরি সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, তবে বঙ্গভবনের প্রশাসনিক সূত্র বলছে, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। একই সময়ে ২৯ জুলাই বঙ্গভবনে চারটি দেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণের প্রস্তুতিও চলমান রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
আপনার মতামত লিখুন :