ভুয়া ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান, জাল ট্রেড লাইসেন্স এবং মিথ্যা পরিচয়ে ব্যাংক হিসাব খুলে ২৫ কোটি টাকার ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে মামলায় মোট ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, এদিন সাক্ষ্য দেওয়া চারজনই ইউসিবিএল ব্যাংকের কর্মকর্তা। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
‘পর্ষদে না থেকেও শেষ কথা ছিল জাবেদের’
আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ইউসিবিএলের চার কর্মকর্তা জানান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য না হলেও প্রতিটি সভায় কার্যত নেতৃত্ব দিতেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পর্ষদের বৈঠকে তার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০১৮ সালে ইউসিবিএলের নিয়ন্ত্রণ জাবেদের পরিবারের হাতে চলে যায়। পরে তার স্ত্রী রুকমিলা জামান ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হলেও, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত স্ত্রীর পরিবর্তে বাস্তবে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ করতেন জাবেদ নিজেই। ওই সময় ব্যাংক থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
যেভাবে সাজানো হয় ঋণ জালিয়াতির পরিকল্পনা
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের এক কর্মকর্তাকে ব্যবসায়ী পরিচয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়। জাল ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে ইউসিবিএলের চট্টগ্রাম বন্দর শাখায় হিসাব খুলে গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির নামে ২৫ কোটি টাকার টাইম লোনের আবেদন করা হয়।
ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা উপেক্ষা করে পরিচালনা পর্ষদ ঋণ অনুমোদন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঋণের অর্থ পাচারের অভিযোগ
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ঋণের অর্থ চারটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে নগদে তুলে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। অর্থের একটি অংশ পরে জাবেদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা দেখিয়ে দায় সমন্বয় করা হয়।
মামলার অগ্রগতি
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান প্রথমে ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ৫ জানুয়ারি ৩৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১১ মার্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
মামলায় মোট সাক্ষী ৯৬ জন। অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির একাধিক ধারা, দুর্নীতি দমন আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :