ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরকারের বড় পদক্ষেপ: ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ৩০, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ন

ঢাকা: দেশে ভূকম্পন ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দুর্যোগ পরবর্তী জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম জোরদারে এক গুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প প্রস্তুতি বিষয়ক একটি ‘বিশেষ সেল’ গঠনের পাশাপাশি ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় এক লাখ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

​বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
​উপ-প্রেস সচিব জানান, সভায় মূলত ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি সাড়াদান এবং সরকারের সার্বিক প্রস্তুতি জোরদার করার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ও দ্রুত উদ্ধারকাজ নিশ্চিত করতে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকও দ্রুততম সময়ে প্রস্তুত করে সবাইকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

​বৈঠকে গৃহীত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয়সমূহ:

​বিশেষ সেল ও জাতীয় টাস্কফোর্স: দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক তদারকি ও দ্রুত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ প্রস্তুতি সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

​লজিস্টিক হাব ও ত্রাণ সরবরাহ: জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহের পর্যালোচনার পাশাপাশি ঢাকা শহরে ‘হিউম্যানিটারিয়ান স্ট্যাগিং এরিয়া’ (HSA) স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি মূলত দুর্যোগের সময়ে দ্রুত ত্রাণ এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর বিশেষ লজিস্টিক হাব বা গুদামজাতকরণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

​সমন্বয় ও জনসচেতনতা: দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি সকল সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার কৌশল নির্ধারণ করা হয়। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে ভূকম্পন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​উচ্চপর্যায়ের এই পর্যালোচনা সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম. এ. মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান খানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।