ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট পৃথক অভিযোগে তিন শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং চার শিক্ষককে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে অতীতের নিয়োগ ও গবেষণা প্রকল্প পর্যালোচনায় দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে শ্রেণিকক্ষে ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকে অফিস শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া—
ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক **ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)**কেও সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে বিভাগের অনিয়ম ও এমফিল-পিএইচডি থিসিসে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সিন্ডিকেট আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্তে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি একই সময়ের বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসির অর্থায়নে পরিচালিত হেকেপ (HEQEP) প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম ও অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ছাড়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে প্রশাসনিক ভবনের সংলগ্ন মলচত্বরে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :