স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় গত ২৪ ঘণ্টায় সমুদ্র ও স্থলপথে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী প্রবেশের চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে সীমান্ত এলাকায় নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং অনুপ্রবেশের সময় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রায় ৪৯ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছেন বা প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৮৪ হাজার, ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হাজারো মানুষ সাঁতরে উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। একই সময়ে স্থলসীমান্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেন।
ইউরোপে নতুন অভিবাসন সংকটের আশঙ্কা
এই ঘটনার পর ইউরোপজুড়ে নতুন করে অভিবাসন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি একে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি উল্লেখ করে স্পেনকে সাময়িকভাবে শেনজেন অঞ্চল থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।
মেলোনি বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন অবৈধ অভিবাসন ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বাস্তব হুমকি এবং প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আদালতের রায়ের প্রভাব
স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ে বলা হয়েছে, সমুদ্রপথে সেউতা ও মেলিলায় পৌঁছানো অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। তবে স্থলসীমান্ত দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিধান বহাল রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের পর সমুদ্রপথে প্রবেশের চেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্পেনের প্রতিক্রিয়া
ইতালির সমালোচনার জবাবে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বলেন, ইউরোপীয় অংশীদারদের কাছ থেকে সংহতি প্রত্যাশিত, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য নয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে।
ইউরোপজুড়ে বিতর্ক
অভিবাসন নীতি নিয়ে স্পেনের অবস্থান ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন ইউরোপীয় নেতা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিবাসীদের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :