শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৮, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ দেশের প্রতিটি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করতে সরকার বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনে আরও নিবেদিত হতে হবে।

জোর দেওয়া হচ্ছে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায়

চিকিৎসাসেবায় সরকারের নীতি ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে মানুষকে শুরুতেই সচেতন করা গেলে অনেক রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় করা সম্ভব।

এ লক্ষ্যে সরকার নতুন করে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন করবেন। এসব স্বাস্থ্যকর্মীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে নানা সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করে। তাই জনগণ ও চিকিৎসক—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

পেশার বাইরে রাজনীতি, তবে দায়িত্বে যেন ব্যাঘাত না ঘটে

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করে। ফলে প্রত্যেকে নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিকভাবে সচেতন বা সংগঠিত থাকতে পারেন।

তবে অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রচলিত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

সবশেষে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য না হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।