রাজধানীর মুগদায় ‘বিয়ের নাটক’ সাজিয়ে তরুনীকে আটক রেখে দেহ ব্যবসা কথিত উকিল বাপসহ তিনজন গ্রেফতার।


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৫, ২০২৫, ৯:৩৩ অপরাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

রাজধানীর মুগদা এলাকায় এক তরুনীকে আটক রেখে বিয়ে নাটক সাজিয়ে জোর করে দেহব্যবসা করার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ কামরুজ্জামান।

গত ২৭ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন ধারায় মামলা করেন তরুনীর ভাই। মামলায় ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন ঘটনার মুল হোতা নিজু মিয়া ও তার সহযোগী অন্নি, হৃদয়. পাখি,জাবেদ, মুন্নি, নেকমত,রহি, বকলিকে। এদের মধ্যে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন- জাবেদ,পাখি ও রহি। স্বীকারোক্তি মুলক জবাববন্দী প্রদান শেষে তাদের আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পুর্ব পরিচিত পাখির মাধ্যমে ওই তরুনী গত ২৫ মার্চ রাজধানীর মুগদা থানা এলাকার ওয়াসা গলির নিজু মিয়ার বাসায় কাজ নেয়। বাসায় কাজ শুরুর কয়েক দিন পর তরুনীকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিজু মিয়া তার কথিত শ্যালক হৃদয়ের সঙ্গে মৌখিক ভাবে বিয়ে দেয়। এটা ছিল একটা ভনিতা। এরপর নিজু মিয়া ওই তরুনীকে বিয়ের পর জোর করে দেহ ব্যবসা করাতে বাধ্য করে। তরুনীকে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিতনা। সর্বশেষ গত ২৪ জুলাই তরুনীকে জোর করে ধর্ষন করে কথিত উকিল বাপ জাবেদ। এরপর তরুনীকে চরমভাবে নির্যাতন করে, এমনকি তার তল পেটের দু পাশে গরম খনতি দিয়ে ছাকা দেয় তার পর গোপনাঙ্গে মচিরের গুড়া লাগিয়ে। এরপর ওই দিন রাতে তরুনীকে সায়েদাবাদে নিয়ে কিশোরগঞ্জ গামী একটি বাসে তুলে দেয়। পরে ওই তরুনীর স্বজনরা গুরুত্বর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেণ্টারে ভর্তি করে। পাশাপাশি তরুনীর ভাই ৯ জনকে আসামি করে মুগদা থানায় মামলা করেন। পুলিশ জাবেদ,পাখি ও রহিকে গ্রেফতার করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাবইন্সপেক্টর মোঃ কামরুজ্জামান জানিয়েছেন,অপর আসামিরা পলাতক। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।