টানা দুই দিনের সহিংসতার পর নেপালজুড়ে সেনা মোতায়েন হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে সেনা-পুলিশ যৌথ টহল দিচ্ছে, নিষিদ্ধ করা হয়েছে জমায়েত ও সমাবেশ। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির পদত্যাগের পর দেশজুড়ে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আন্দোলন ছিনতাইয়ের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তরুণ বিক্ষোভকারীরা।
প্রতিবাদকারীরা বলছেন, তাদের অহিংস আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারীরা নাশকতা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনীও একই দাবি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌদেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রিসভার অধীনেই দেশ পরিচালিত হবে। তবে তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। সেনাবাহিনীও রাষ্ট্রপতির সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে পারেনি।
সাম্প্রতিক সেনা মোতায়েনকে নেপালের ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে শুধু মাওবাদী বিদ্রোহ দমনে সেনা মাঠে নেমেছিল। এবারও পুলিশ ব্যর্থ হওয়ায় সেনা নামাতে বাধ্য হয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
যদিও সেনাবাহিনী বলছে তারা কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে, বিশ্লেষকদের মতে কার্যত দেশ এখন সেনার নিয়ন্ত্রণে। কারণ আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্ট পৌদেলের পদত্যাগও চাইছে।
প্রশ্ন উঠেছে—অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি গঠন হবে, নাকি সেনার উপস্থিতিতেই দেশ চালিত হবে? এর উত্তর এখনো অনিশ্চিত।
আপনার মতামত লিখুন :