রক্তাক্ত গাজা

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৫৩, দুর্ভিক্ষে মৃত বেড়ে ৪২২


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় আবারও রক্তাক্ত হলো গাজা। সর্বশেষ অভিযানে একদিনেই নিহত হয়েছেন অন্তত ৫৩ ফিলিস্তিনি। গাজা সিটির অন্তত ১৬টি ভবন, যার মধ্যে তিনটি আবাসিক টাওয়ার, মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বিমান হামলা।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জনই গাজা সিটির বাসিন্দা। এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপুষ্টিতে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্ষুধায় প্রাণহানি দাঁড়াল ৪২২ জনে।

জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে—গাজায় কোথাও আর নিরাপদ আশ্রয় নেই। ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি জানিয়েছেন, শুধু গত চার দিনেই গাজা সিটির ১০টি ভবন, যার মধ্যে সাতটি স্কুল ও দুটি ক্লিনিক রয়েছে, বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষ।

ইসরায়েলের “পদ্ধতিগত বোমাবর্ষণ”কে গণহত্যা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর। বাস্তবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, মসজিদ, স্কুল ও মানবিক সংস্থার দপ্তর।

অবিরাম হামলায় পরিবারগুলো দক্ষিণের আল-মাওয়াসি অঞ্চলে পালিয়ে যাচ্ছে, যেটিকে ইসরায়েল তথাকথিত “নিরাপদ অঞ্চল” ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেখানেও বোমা পড়ছে নিয়মিত। বাস্তুচ্যুতদের বর্ণনায়—খাবার নেই, পানি নেই, আশ্রয় নেই, শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে।

ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি প্রতিদিনই আরও ভয়াবহ হচ্ছে। সংস্থার মুখপাত্র টেস ইঙ্গ্রাম জানান, এমনকি মানবিক অঞ্চলও আর নিরাপদ নয়। তিনি তুলে ধরেন এক নারীর অভিজ্ঞতা—গাজা থেকে উচ্ছেদের পর রাস্তার ধারে সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য হন তিনি।

👉 আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক করলেও, অবরুদ্ধ গাজায় দিন দিন বেড়েই চলেছে মৃত্যু, দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়।