এনবিএফআই

৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত: লুটপাটে ধসে পড়া এনবিএফআই খাত


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৫, ২০২৫, ৬:২০ অপরাহ্ন

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাত ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। বহু প্রতিষ্ঠানই এখন গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাথমিকভাবে নয়টি দুর্বল এনবিএফআই বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাট, মূলধন ঘাটতি ও উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের আস্থা মারাত্মকভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় ২০টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১৬ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকার বেশি প্রাতিষ্ঠানিক এফডিআর আটকে আছে। এর মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠান অতি দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিং, প্রিমিয়ার লিজিংসহ বেশ কয়েকটির প্রায় পুরো ঋণই খেলাপি। এই নয়টি প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাব, কমিশন বাণিজ্য ও উচ্চ সুদের প্রলোভনেই এসব প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের এফডিআর রাখা হয়েছিল। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান বলেন, এ সংকটের পেছনে দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবই মূল কারণ। তৎকালীন সময়ে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও এস আলম গ্রুপের প্রভাব খাতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো কোথায় টাকা রাখবে, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। কিন্তু আসল সমস্যা হলো দুর্নীতি, যা বন্ধ না হলে এই খাতের উন্নতি সম্ভব নয়। অর্থবিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এফডিআর রাখার ক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এনবিএফআই খাতের এই ধস থামানো কঠিন হবে।