আমদানি নীতিতে বৈষম্যের প্রতিবাদে রুখে দাঁড়াল বারভিডা: আজ দেশজুড়ে শো-রুম ও খালাস কার্যক্রম বন্ধ। বারভিডার কঠোর হুঁশিয়ারি


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ন
আমদানি নীতিতে বৈষম্যের প্রতিবাদে রুখে দাঁড়াল বারভিডা: আজ দেশজুড়ে শো-রুম ও খালাস কার্যক্রম বন্ধ। বারভিডার কঠোর হুঁশিয়ারি

আমদানি নীতিতে একপেশে ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকল ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

অংশীজন তথা ব্যবসায়ীদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই নতুন নীতিমালায় ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ায় রাজপথে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর সারা দেশে এক অভূতপূর্ব সর্বাত্মক অচলাবস্থার ডাক দিয়েছে বারভিডা নেতৃত্ব।

​বারভিডার দায়িত্বশীল নেতাদের মতে, বছরের পর বছর ধরে দেশের অর্থনীতি ও রাজস্ব খাতের অন্যতম শক্ত স্তম্ভ হিসেবে ভূমিকা রাখছে রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাত। অথচ নীতি-নির্ধারকরা বাস্তবতা ও ব্যবসায়ীদের মতামতকে পুরোপুরি তোয়াক্কা না করে যে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা গোটা অটোমোবাইল শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সংগঠনের পাবলিকেশন অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি মোঃ আবদুল আউয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অটোমোবাইল নীতিমালার ওপর সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা ও সরকারের রাজস্ব আয় সরাসরি নির্ভরশীল। ফলে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে টেবিলে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল যুক্তিসঙ্গত।

গাড়ি ব্যবসায়ী আবু হোসেন ভূইয়া (রানু)

​বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গঠিত বারভিডার ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ ইতোমধ্যে বিশেষ সাধারণ সভা, মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন সফলভাবে শেষ করেছে। তবে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সারা দেশে একযোগে সব শো-রুম দিনব্যাপী সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই দিনে বিআরটিএ-তে কোনো প্রকার গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করা হবে না এবং দেশের কাস্টম হাউসগুলোতে আমদানিকৃত গাড়ির রাজস্ব প্রদান, ই-পেমেন্টসহ বন্দর থেকে গাড়ি খালাসের সমস্ত কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত থাকবে।

​ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের নীতি-নির্ধারকেরা যদি অবিলম্বে জেদ ছেড়ে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে এই বিতর্কিত নীতি সংশোধন না করেন, তবে এই প্রতিবাদ আরও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে। পাশাপাশি দেশের পরিবহন বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরির যাবতীয় দায়ভার নীতি-নির্ধারকদেরই নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ভিআইপি রোডে অটো প্লাসের স্বত্বাধিকারী, বারভিডা ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আবু হোসেন ভূইয়া (রানু) বলেন, গত ২৪ আগস্ট আমদানি নীতি পলিসিতে আমাদের জাপানিজ রিকন্ডিশন ইলেকট্রিক গাড়ি বন্ধ করে দেয়। এটা কোন এক পক্ষকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার স্বার্থে। এই বৈষম্য কেন? কেননা মার্কেট হচ্ছে ক্রেতার চয়েস। ক্রেতা যা চয়েস করবে তাই কিনবেন। জাপানিজ গাড়ি টেকসই এবং ৩০ বছর পরেও এই গাড়ির রিসেল ভ্যালু ভালো থাকে। এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, ইভি গাড়ি যেটা ইলেকট্রিক গাড়ি ভেহিকল বলে— মানে বাজারে সরকার ব্র্যান্ড নিউ নিয়ে আসছে। আসলে এই গাড়ি কতটুক টেকসই? কারণ পার্টস এভেলেবল না। আর আমাদের জাপানিজ গাড়ি পার্টস দেশের আনাচে-কানাচে সব জায়গায় পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ​তো একটা পক্ষকে যদি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য এটা সরকার করে থাকে, তাহলে আমি বলবো এটা বৈষম্যমূলক। আমরা লেভেল প্লেইং ফিল্ড চাই। ক্রেতাদের কিন্তু জাপানিজ গাড়ির দিকে ঝোঁক। যানবাহনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা দেখি, এই রিকন্ডিশন জাপানিজ গাড়িই একমাত্র আমাদের পরিবহন জগতে মানুষের সহজলভ্যতা এনে দিয়েছে। ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতসহ বিভিন্ন কাজে-কর্মে সহযোগিতা করে আসছে।
তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতিতে আমদানী করা যাবে না প্রত্যাহার করে
অবশ্যই যেন রিকন্ডিশন জাপানিজ ইভি গাড়ি আমদানীর সুযোগ করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, এই সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। এই সরকার দেশে উন্নয়নের শপথ করেছে। সরকার চায় সকলের কর্মসংস্থান হোক। এই মুহূর্তে জাপানিজ রিকন্ডিশন ইভি গাড়ি আমদানি বন্ধ করে দেয়, তাইলে আমাদের কর্মচারীরা কোথায় যাবে?

​সেই দিক বিবেচনা করে জাপানিজ ইভির এই আমদানি নীতি প্রত্যাহারের সুযোগ চাচ্ছি। সরকারের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অচিরেই আমাদের ব্যবস্থাটা করে দেন।ক্রেতারা যেন তাদের চয়েস মতো গাড়ি কিনতে পারে, সেই দিকটা বিবেচনা করা খুব জরুরী।

গত ২৪ আগস্ট ঘোষিত নতুন আমদানি নীতিতে জাপানি রিকন্ডিশন ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানির সুযোগ বন্ধ করার প্রতিবাদ জানিয়ে এ সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেছেন বারভিডার অন্যতম শীর্ষ দুই নেতা ব্যবসায়ী হাবিবুল্লাহ ডন ও রিয়াজ রহমান। তাঁদের মতে, বাজার পরিচালিত হওয়া উচিত ক্রেতার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে। দেশে দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত জাপানি রিকন্ডিশন গাড়ি অত্যন্ত টেকসই, পুনঃবিক্রয়মূল্য ভালো এবং এর খুচরা যন্ত্রাংশও দেশজুড়ে সহজলভ্য। এটি দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
​অন্যদিকে, বর্তমানে বাজারে আসা নতুন ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) কতটা টেকসই এবং এর যন্ত্রাংশ কতটা সহজলভ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যবসায়ীরা সমান সুযোগ (লেভেল প্লেইং ফিল্ড) নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁরা সতর্ক করে বলেন, হুট করে এই ব্যবসা বন্ধ হলে বিপুলসংখ্যক কর্মচারীর কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। তাই সরকারের কাছে আমদানি নীতির এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়ের স্বার্থরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।