বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে দিয়েছেন একটি স্পষ্ট শর্ত—তিনি কেবলমাত্র ‘বৈধ সরকারের’ অধীনে দেশে ফিরবেন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের সঙ্গে ই-মেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি দেশে ফিরতে চাই, কিন্তু ফিরব তখনই, যখন দেশে বৈধ সরকার থাকবে এবং প্রকৃত আইন-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। অভ্যুত্থানের সময় সহিংস দমন, গুম, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে।
ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে গঠিত কোনো সরকারের অধীনে তিনি দেশে ফিরবেন না। আপাতত তিনি ভারতেই অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলে জানান।
অন্যদিকে, লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-কে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিহতদের বিষয়ে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে, বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধপত্র পাঠিয়েছে, যদিও এখনো দিল্লি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অগ্রগতির অংশ হিসেবে আদালত শেখ হাসিনাকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন তার দেশে ফেরত এনে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :